খুলনার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই যুবককে নৃশংস ভাবে হত্যা করা
হয়েছে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনে ঘটেছে এই ভয়াবহ ঘটনা।
আদালত চত্ত্বরের মতো নিরাপত্তা-সংবেদনশীল এলাকায় এমন নৃশংস হামলা স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকার রাজন ও হাসিব নামে দুই যুবক একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন। হাজিরা শেষে আদালত ভবনের মূল ফটক অতিক্রম করার সঙ্গে সঙ্গে মোটরসাইকেলে আসা ৬-৭ জন দুর্বৃত্ত হঠাৎ গুলি চালাতে শুরু করে।
[caption id="attachment_1516" align="alignnone" width="300"]
Oplus_131072[/caption]
গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর হামলাকারীরা কাছে গিয়ে চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থল রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। আশপাশে থাকা আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও পথচারীরা আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন।
স্থানীয়রা আহত দুজনকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর আদালত এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বহু বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবী হামলার সময় প্রাণ রক্ষায় দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। অনেক আইনজীবী সরাসরি আদালত এলাকায় নিরাপত্তাহীনতার সমালোচনা করেছেন। তাদের ভাষায়, আদালতের সামনে এমন খুনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতার ইঙ্গিত দেয়। নিরাপত্তা জোরদার না হলে কেউই নিরাপদ নয়।
ঘটনার পর খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি), র্যাব, সিআইডি ও ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। আদালত ভবনের প্রবেশমুখ, আশপাশের দোকানপাট ও সড়কের সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করে দেখা হচ্ছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করিম সাংবাদিকদের বলেন, দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, হামলার পর মুহূর্তেই দুর্বৃত্তরা দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত। রাজন ও হাসিব কোন গোষ্ঠীর পক্ষের ছিলেন এবং কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত দুই যুবকের এলাকায় প্রভাব বিস্তার, আগের দ্বন্দ্ব বা অপরাধী চক্রের বিরোধের জেরে এই হামলা হতে পারে। তবে পুলিশ এখনো কোনো বিষয় নিশ্চিত করেনি।
ঘটনার পর আইনজীবী সমিতি আদালত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের দাবি তুলেছে। অনেকেই বলছেন, আদালত প্রাঙ্গণসহ আশপাশে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা জরুরি।