স্টাফ রিপোর্টারঃ
অধিকার বঞ্চিত অনেক নারীরা তাদের সন্তানের পিতৃ- পরিচয়ের দাবীতে মানুষের দ্বারে-দ্বারে ঘুরেন এটা প্রায়ই দেখা যায়। তবে এবার সন্তান তার মায়ের অধিকার ও নিজের পিতৃ পরিচয় পেতে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,প্রশাসন ও সাংবাদিকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। জনপ্রতিনিধি থেকে এলাকারবসর্বস্তরের মানুষের হাতে পায়ে ধরছেন শুধু বাবার পরিচয়টার জন্য। যেনো মানুষকে পরিচয় দিতে পারে। বাবার নামটা যেনো বলতে পারে। আর বাবার নামের জন্য স্কুলে লেখা পড়া, জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয় পত্রসহ কোন কিছুতে সফল হতে পারছেনা ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের বালিদিয়া গ্রামের আক্কাছ আলী আদর্শ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী দ্বীন মনি নূর (১৭)। নবম শ্রেণিতে থাকাবস্থায় রেজিষ্ট্রেশনের সময় তার জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হলেও সেটা দিতে ব্যর্থ হয় দ্বিন মনি নূর। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মানবিকতায় রেজিষ্ট্রেশন কার্যক্রম কোনভাবে সম্পন্ন করলেও সামনে এসএসসির ফরম পূরণ। সেখানে কি লিখবে পিতার স্থানে, ফরম পূরণ হবে কিনা তা নিয়েও সঙ্কায় রয়েছে দ্বীন মনি নূর। স্কুল শিক্ষিকা ফুফু রহিমার ষড়যন্ত্রে পিতৃপরিচয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তার।
দ্বীন মনি নূর জানায়- তার মাতা-মোছাঃ বকুল এর সাথে বালিদিয়া গ্রামের মোনতা মৌলভীর পুত্র আনোয়ার হোসেনের সাথে প্রায় ১৯ বছর পূর্বে প্রেম গঠিত সম্পর্কের ভিত্তিতে উভয়ের পরিবারের অজান্তে (কাবিন রেজিষ্ট্রি ব্যাতিরেকে) ইসলামী শরিয়া মোতাবেক মৌলভী দ্বারা বিবাহ হয়। তাদের ঔরস জাত সন্তান হিসাবে তার জন্ম হয়। তার মাকে মৌলভী পরিবার পুত্র বধু হিসাবে মেনে না নেওয়ায় দ্বিন মনি তার জন্মের পর থেকে এতিমখানায় বড় হয়। যখন সে বুঝতে পারে, তখন জানতে পারে মায়ের গর্ভে থাকাবস্থায় তার মা বকুল দ্বিনমনির পিতৃ পরিচয় স্বীকৃতি দাবী করলে বাবা আনোয়ার সহ তার পরিবারের সবাই অস্বীকার করে। সে পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে এলাকার বিভিন্ন গন্যমান্য লোকজনের দ্বারস্থ হলেও তার ফুফু রহিমা খাতুন বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় এবং এর আগে মা বকুল সন্তানের পরিচয় চাওয়ায় তার বাবা আনোয়ার হোসেনকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয় ফুফু রহিমা। যেন আমি পিতৃ পরিচয় ও মা স্বামীর অধিকার নিয়ে কখনো বাবার সামনে দাঁড়াতে না পারে। দ্বিনমনি অভিযোগ করে- বাবা বিদেশ থাকার কারণে আমি তার সাথে অদ্যাবধি পর্যন্ত যোগাযোগ করতে পারি নাই। আমাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয় নি। এমনকি আমার বাবার ফোন নাম্বারটিও আমাকে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে আমি স্থানীয় আক্কাছ আলী আদর্শ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। আমার এস.এস.সি পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন, জন্ম নিবন্ধ, ভোটার নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে পিতৃ পরিচয় আবশ্যকিয় বিধায় এসকল কাজ করতে পারছি না। এস.এস.সি পরীক্ষাসহ সামনের দিনগুলিতে আমার ভবিষ্যত জীবন অচল হয়ে পড়ার সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। পিতৃ পরিচয় ছাড়া আমাকে অনেকের কথা শুনতে হয়। সমাজ আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করছে, বিভিন্ন কুটুক্তি করছে এমতাবস্থায় পিতৃ পরিচয় না পেলে সামনের দিনগুলিতে আমার জন্য বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভাল।
প্রশাসন ও মানবাধিকার পরিষদের কাছে আইনি সহায়তা চাইছেন দিনমনি নূর। দাবি করছেন তার নিজের ও মায়ের অধিকার। বর্তমানে দ্বিনমনি নিজেকে অসহায় দাবি করে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলেও জানান। সে তার মা’সহ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনের সহায়তা চাচ্ছেন।

