খাগড়াছড়ি সংবাদদাতা:
রাঙ্গামাটি বন সার্কেলের আওতাধীন খাগড়াছড়ি বন বিভাগের মাটিরাঙ্গা রেঞ্জে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ পাচার ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া জোত পারমিটের বিপরীতে ইস্যুকৃত টিম্বার পাস (টিপি) ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাঠ পরিবহনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগের তীর রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার আতাউর রহমান লস্করের দিকে, যিনি কাঠবোঝাই ট্রাক থেকে ‘চেকিং’য়ের নামে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিদিন ১০ থেকে ২০টি ট্রাকভর্তি চোরাই কাঠ মাটিরাঙ্গা রেঞ্জ অফিসের সামনের চেকপোস্ট দিয়ে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য জেলায় পাচার হচ্ছে। ট্রাকপ্রতি ৮ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে কাঠের মাপ ও জাত টিপির সঙ্গে মিল নেই—এমন অজুহাতে কাঠসহ ট্রাক জব্দের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে কাঠ ব্যবসায়ী ও পরিবহন মালিকরা বাধ্য হয়ে অর্থ পরিশোধ করছেন।
আরও জানা গেছে, মাটিরাঙ্গা রেঞ্জে যেসব জোত পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই কাল্পনিক ও ভুয়া। পারমিটে উল্লেখিত স্থানে সরেজমিন তদন্ত করলে অনুমোদিত গাছের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। প্রকৃতপক্ষে সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও স্থানীয়দের বসতবাড়ি থেকে গাছ সংগ্রহ করে এসব টিপি ইস্যু করা হচ্ছে, যা বনজদ্রব্য পরিবহন নীতিমালা ও বন সংরক্ষণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
টিপিতে উল্লেখিত কাঠের সঙ্গে ট্রাকে পরিবাহিত কাঠের জাত, পরিমাপ ও পরিমাণ মিলিয়ে দেখলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যাপক গড়মিল পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সেনাবাহিনী স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে ইতোমধ্যে একাধিক কাঠবোঝাই ট্রাক ও মজুদকৃত অবৈধ কাঠ জব্দ করে মাটিরাঙ্গা সেনা জোনে আটক করে বন বিভাগে হস্তান্তর করেছে।
এত অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ড ধরা পড়ার পরও অভিযুক্ত ফরেস্টার আতাউর রহমান লস্কর (ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এখনো বহাল তবিয়তেই মাটিরাঙ্গা রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, অভিযুক্তদের অপসারণ এবং অবৈধ কাঠ পাচার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

