বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধ কাঠ পাচার ও ইটভাটায় লাকড়ি সরবরাহকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা সুজা আকবর প্রশাসন, বন বিভাগ ও পুলিশের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত লাকড়িবাহী গাড়ি ইটভাটায় পাঠাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফাইতং ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে ফলজ ও বনজ গাছ কেটে দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। যদিও সম্প্রতি বন বিভাগ ইটভাটায় লাকড়ি পোড়ানো বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে, বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—সুজা আকবরের এই ‘খুঁটির জোর’ কোথায়?
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকাশ্য দিবালোকে কাঠবোঝাই গাড়ি চলাচল করলেও কোনো ধরনের বাধা বা অভিযান চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আশ্রয়েই এই অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তার নীরব ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারির অভাব এই অবৈধ কাঠ ব্যবসাকে আরও উৎসাহিত করছে। এতে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুজা আকবর কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ কাঠ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন ও বন বিভাগের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা

