চট্টগ্রাম, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫:
গার্মেন্টস খাতে সবুজ রূপান্তর, সবুজ কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের ন্যায্য ও টেকসই চাকরি নিশ্চিতকরণ বিষয়ে চট্টগ্রামে একটি এডভোকেসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় নীতিগত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয় এই সভা থেকে।
“Advocacy Dialogue on Green and Just Employment for Garments Workers: Worker’s Voices in the Green Transition” শীর্ষক এই আলোচনা সভায় কী ইনফরম্যান্ট ইন্টারভিউ (KII)–এর মাধ্যমে সংগৃহীত গবেষণালব্ধ তথ্য উপস্থাপন করা হয় এবং গার্মেন্টস সেক্টরের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে অংশীজনরা মতবিনিময় করেন।
সভাটি সঞ্চালনা করেন ঊষার আলো যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাইসুল ইসলাম। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্পে সবুজ রূপান্তর তখনই টেকসই হবে, যখন তা শ্রমিকদের ন্যায্য কর্মসংস্থান ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ইয়ুথ পিপল অফ বাংলাদেশ–এর সদস্য নুসরাত আফরিন গার্মেন্টস সেক্টরে সবুজ রূপান্তর ও শ্রমিকদের ন্যায্য চাকরি বিষয়ে প্রণীত KII রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, গবেষণায় শ্রমিকদের সবুজ দক্ষতার ঘাটতি, অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
ইয়ুথ ইনোভেশন ফর একশন–এর নির্বাহী পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা মৌসুমী আক্তার বলেন, বর্তমান পরিবেশ বিপর্যয় ও জলবায়ু সংকট শিল্পখাতের জন্য বড় সতর্ক সংকেত। তিনি গার্মেন্টস খাতে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ চাকরি সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ইয়ুথ ভয়েস ফর চেঞ্জ–এর সহ-সভাপতি ও পরিবেশকর্মী আব্দুল মান্নান জিহাদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে শ্রমজীবী মানুষের ওপর। তিনি শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং ন্যায্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে কার্যকর সবুজ নীতিমালা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
পরিবেশকর্মী রাসেল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ নিয়ে গবেষণা হলেও প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা ও প্রশাসনিক অনীহার কারণে গার্মেন্টস খাতে কার্যকর উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি KII রিপোর্টে উত্থাপিত সবুজ দক্ষতা উন্নয়ন ও শ্রমিকদের অংশগ্রহণের সুপারিশগুলো সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন।
রিসার্চ স্পেশালিস্ট ও পরিবেশকর্মী মোঃ ইকরাম বলেন, যুবদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা গার্মেন্টস সেক্টরের কাঠামোগত দুর্বলতা ও নীতিগত ঘাটতিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। তিনি নিরাপদ কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন।
সবুজের যাত্রা–এর নির্বাহী পরিচালক সায়রা বেগম বলেন, যুবসমাজই দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ অর্থনীতির চালিকাশক্তি। ন্যায্য ও সবুজ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হলে যুবসমাজ দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও মানসিক চাপে পড়বে।
শিল্পখাতের প্রতিনিধি ফ্রিল্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড–এর ম্যানেজার মোঃ শাহজাহান বলেন, সবুজ দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমিকদের অংশগ্রহণ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা টেকসই শিল্পায়নের জন্য অপরিহার্য। তিনি এ বিষয়ে বাস্তব উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া ইউনেস্কো গার্মেন্টস, চট্টগ্রাম–এর ইনচার্জ মোঃ রাসেল বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরে স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং নীতিমালায় সবুজ ও ন্যায্য কর্মসংস্থান অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। তবে রাজনৈতিক ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাটি আয়োজন করে ঊষার আলো যুব সংঘ। এতে অর্থায়ন করে গ্লোবাল প্লাটফর্ম বাংলাদেশ। সহযোগিতায় ছিল ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম এবং সার্বিক সহযোগিতায় ইয়ুথ ইনোভেশন ফর একশন।

