খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা শাখার সদস্য পরিচয় দিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন নেসার উদ্দিন সড়কের একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতরা নিজেদের এনসিপির নেতা দাবি করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অনুসন্ধানে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। ফেসবুকভিত্তিক বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ‘দ্যা ডেলটা লেন্স’-এর তথ্যানুযায়ী, আটককৃতদের একজন আল নাইম এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। বরং তিনি বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। অপর দুই আটককৃত হলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও মিরাজ গাজী।
ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনায় দেখা যায়, আল নাইম খুলনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি ছাত্রদলের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন এবং দলীয় নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে আসছিলেন। এছাড়া গত ১৫ জানুয়ারি তিনি খুলনা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থীর একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন, যেখানে লেখা ছিল— “রূপসা ঘাটকে চাঁদাবাজ ও টোলমুক্ত করা হবে।” ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক নেটিজেন ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেছেন— চাঁদাবাজি বন্ধের কথা বলে শেষ পর্যন্ত চাঁদাবাজিতেই ধরা পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
“বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

