জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হয়ে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে খাগড়াছড়ি–২৯৮ নং সংসদীয় আসনে ‘গণভোটের এম্বাসেডর’ হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। তিনি পেশাগত জীবনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া সারাদেশের ২৪৩টি আসনে গণভোটের এম্বাসেডরদের নাম ঘোষণা করেন। এ সময় খাগড়াছড়ি–২৯৮ আসনের জন্য অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, যে ৩০টি আসনে শাপলাকলি প্রতীকে এনসিপির প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেসব আসনে আলাদা করে গণভোটের এম্বাসেডর নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ি–২৯৮ আসনের নির্বাচিত প্রার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০-দলীয় জোটের প্রার্থীকে আসনটি সমঝোতার ভিত্তিতে ছেড়ে দিয়ে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।
গণভোট প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা বলেন, “এবার ভোট দুটি—একটি সরকার গঠনের ভোট দলীয় প্রতীকে, আরেকটি রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট। আমরা যারা রাষ্ট্রের সংস্কার চাই, আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব এবং জনগণকেও ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে আহ্বান জানাব।”
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শুরুতে কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা আগস্টে গিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের গণদাবিতে রূপ নেয়। সহস্র শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য ছিল পুরো শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার। গণভোটের মাধ্যমে সেই সংস্কারের একটি বড় অংশ বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা বলেন, “গণভোটে ‘হ্যাঁ’ কেন জরুরি—তা জনগণকে বোঝাতে হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এই লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণকে সচেতন করতে হবে, যেন তারা চাঁদাবাজি, ফ্যাসিবাদ ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতিকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে পারে। এটাই শেষ সুযোগ—এবার পরিবর্তন না এলে ভবিষ্যতে তা আর সম্ভব নাও হতে পারে।”
তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ঘরে ঘরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর আহ্বান পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।