ঢাকারবিবার , ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. আইন আদালত
  3. আজ দেশজুড়ে
  4. আজকের সর্বশেষ
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কৃষি সংবাদ
  7. খাদ্য ও পুষ্টি
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. চট্টগ্রাম
  11. চাকরি-বাকরি
  12. ছড়া
  13. জাতীয়
  14. জীবনযাপন
  15. ঢাকা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘুষ ছাড়া কাজ ক‌রেন না ময়মনসিংহ সদর সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান

স্টাফ রিপোর্টারঃ
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ১১:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টারঃ

ময়মনসিংহ সদ‌র উপজেলা ভূ‌মি অ‌ফি‌সের সার্ভেয়ার মোঃ হুমায়ুন কবির খান ঘুষ ছাড়া কোনও কাজ ক‌রেন না। এমনকি মোটা অঙ্কের ‍ঘুষ নিয়ে একজনের জমির দাগ, পরিমাণ ও মৌজা নম্বর পরিবর্তন করে আরেকজনের নামে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন জমির মালিকরা। কেউ কেউ জমিও হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ঘুষ নিয়ে এক মৌজার জমি অন্য মৌজায় দিয়ে নতুন দাগ তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে, তবে চাহিদামতো ঘুষ পেলে সঠিক মৌজার জমির ওপর প্রতিবেদন দিচ্ছেন সার্ভেয়ার।

ভোগান্তির শিকার কয়েকজন জমির মালিক জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ সদর বিভাগীয় জেলার প্রধান নগরী হওয়ায় এ নগরীতে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের চাহিদা রয়েছে। আর জমি কেনাবেচার আগে খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজার বিষয়ে সার্ভেয়ারকে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হয়। ওই প্রতিবেদন না থাকলে জমি কেনাবেচা করা যায় না। এ অবস্থায় জমির মালিকরা ওই প্রতিবেদনের জন্য সদর উপজেলা ভূ‌মি অ‌ফি‌সে এলে আগেই মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান। এই ঘুষের ব্যবসা চালানোর জন্য তার রয়েছে বিশাল দালাল বাহিনী। ঘুষ না দিলে মাসের পর মাস প্রতিবেদনের জন্য তাদের ঘোরানো হয়। অনেক সময় দেখা যায়, ঝামেলাযুক্ত জমিগুলোর ক্ষেত্রে একজনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঘুষ নিয়ে ওই জমি আরেকজনের উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিক জমিটি হারাচ্ছেন।

খোঁজ নি‌য়ে জানা‌ গে‌ছে, ময়মনসিংহ সদরে আসার আগে ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ছিলেন হুমায়ুন কবির খান। সেখানে তার ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে সেবা গ্রহীতারা। সদর ভূমি অফিসে যোগদান করেও অল্পদিনে ঘুষ বাণিজ্যে বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করতে আসা জমির মালিকদের কাছ থেকে ঘুষ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন। ঘুষ ছাড়া ভূমির কোনও কাগজপত্র দিচ্ছেন না। এমনকি খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজা ঠিক থাকা সত্ত্বেও মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে প্রতিবেদন দিচ্ছেন। আবার যার কাছ থে‌কে বে‌শি টাকা পা‌চ্ছেন, তার পক্ষে জমির প্রতিবেদন দিচ্ছেন। ঘুষ না পেলে ঘটে বিপত্তি। অনুসন্ধান করে এমন অসংখ্য অভিযোগ জানা গেছে তার বিরুদ্ধে।

মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে প্রতিবেদন নিয়েছেন এমন কয়েকজন ভুক্তভোগী এই প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, ভূ‌মি অ‌ফি‌সের সার্ভেয়ারের সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া এখানের কোনও জমি বেচাকেনা করা যায় না। এই সুযোগ নিচ্ছেন সার্ভেয়ার। খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজা ঠিক থাকা সত্ত্বেও জমির পরিমাণ বুঝে এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ চান। টাকা না দিলে বছরেও প্রতিবেদন দেন না সার্ভেয়ার। শেষমেশ বাধ্য হয়ে সবাই ঘুষ দিচ্ছেন। আবার কেউ এসব নিয়ে কথা বললে কিংবা প্রতিবাদ জানালে তাকে হয়রা‌নির শিকার হতে হয়। জমিও হারাতে হয়। এসব নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবগত করলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান ।

নিজের জমি বিক্রি করার জন্য সার্ভেয়ারের কাছে সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে ঘুষ দিতে অস্বীকার করায় জমি হারিয়ে একাধিক জমি মালিক বলেন, তাদের খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও মৌজায় কোনও ভুল ছিল না। কেনা জমিটির সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও আরেকজন‌কে জায়গার প্রতিবেদন দিয়ে দখল দিয়েছেন সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান।

একইভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন জেলা সদরের একাধিক বাসিন্দা । তারা বলেন, ‘তাদের জায়গার শুনা‌নিতে তাদেরকে ছাড়াই ক্রেতা‌কে প্রতিবেদন দেওয়ায় জ‌মিটি হারাতে হ‌য়ে‌ছে। এমন দুর্নীতিবাজ সা‌র্ভেয়ার জীবনেও দেখিনি বলেও অনেকে মন্তব্য করেন ।

চুরখাইয়ের এক বাসিন্দা বলেন, ‘সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান এর চাহিদামতো ঘুষ না দিলে বলা হয়, জমির কাগজপ‌ত্রে নানা সমস্যা। এসব ঠিক করতে টাকা লাগবে। টাকা দিলে সব ঠিক। না হয় মাসের পর মাস হয়রা‌নি ক‌রেন। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে উপজেলার সব গ্রাহককে হয়রানি করে ঘুষ নিচ্ছেন হুমায়ুন কবির খান।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান-আমার একটা জমির ফাইল প্রায় ৮ মাস ধ‌রে সার্ভেয়ার হুমায়ুনের কা‌ছে প‌ড়ে আছে । তিনি বলেন, ‘এখনও রিপোর্ট দেয় নাই। এর আগের এসিল্যান্ড বলার পরও নানা কথা বলে ঘুরাচ্ছেন সার্ভেয়ার। শেষে আমার কাছে পঞ্চাশ হাজার টাকা চেয়েছেন। দি‌তে পা‌রি‌ নাই। তাই আজও রিপোর্ট দেয়নি। জমির কাগজপত্র সব ঠিক থাকার পরও রি‌পোর্ট দেয় না। টাকা ছাড়া দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি এত টাকা পাবো কোথায়? এত টাকা আমার কাছে থাকলে কী আর জমি বিক্রি করতে চাইতাম।’

অবশ্য সাধারণ মানুষের এসব ভোগান্তিকে কোনও গুরুত্ব দিচ্ছেন না সদ‌র উপজেলা ভূ‌মি অ‌ফি‌সের সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবির খান ।

জমির প্রতিবেদন নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান মুঠোফোনে বলেন তার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগের অস্বীকার করেন, সত্য নয় বলে জানান।

সুত্র জানা যায় সার্ভেয়ার হুমায়ুন কবির খান এর আগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা ভূমি অফিসে পরে সেখান থেকে ফুলবাড়িয়ায় বদলী হন। দায়িত্ব প্রাপ্ত এই দুই উপজেলায় তার দায়িত্ব পালনে অনিয়ম দুর্নীতির সমালোচনা থাকায় বেশীদিন টিকে থাকতে পারেননি। সর্বশেষ তিনি ফুলবাড়িয়ায় অনিয়ম দুর্নীতি করে সমালোচিত হয়ে সেখানকার সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের তুপে পড়ে সদর উপজেলায় যোগদান করেন। তার দেশের বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলায়।

আমাদের সাইটে আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে নির্ভুল সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। আমরা সবসময় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবে, যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম বা নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য। এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
%d bloggers like this: