পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান—দীর্ঘদিন ধরে একটি সুপরিকল্পিত বৈষম্য, বঞ্চনা ও একচেটিয়া আধিপত্যের শিকার। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এ অঞ্চলে বসবাসরত সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জনগোষ্ঠী আজও জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী পদ ভাইস চেয়ারম্যান থেকে বঞ্চিত। এই অবস্থা আর কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না, মেনে নেওয়া হবে না।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা পরিষদে বাঙালি প্রতিনিধিত্ব ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিশ্চিত করার দাবিতে রাজপথে নামার চূড়ান্ত আহ্বান জানিয়েছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান সমন্বয়ক মোঃ নিজাম উদ্দিন কঠোর ভাষায় বলেন,
“পার্বত্য চট্টগ্রাম কোনো বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড নয়, কোনো গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তিও নয়। এটি বাংলাদেশের অংশ। অথচ এখানে বছরের পর বছর ধরে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। জেলা পরিষদের ক্ষমতার কাঠামোকে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত করে রেখে যে বৈষম্যের রাজনীতি চালানো হচ্ছে, তার অবসান ঘটাতে এখন রাজপথ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।”
তিনি আরও বলেন,
“ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাঙালি প্রতিনিধিত্ব কোনো অনুগ্রহ নয়—এটি আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।
সংবিধান সমতা, ন্যায্যতা ও সকল নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলেছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে সেই সংবিধান বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। এই লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে যদি আজ আমরা না দাঁড়াই, তাহলে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।”
মোঃ নিজাম উদ্দিন বলেন,
“নির্বাচনের আগে নানা আশ্বাস, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর শান্তির বুলি শুনিয়ে যারা ক্ষমতায় যেতে চায়, নির্বাচন শেষ হলেই যদি তারা আবার বাঙালি জনগোষ্ঠীর দাবিকে অগ্রাহ্য করে—তাহলে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সেই অবহেলার জবাব দেওয়া হবে সংঘবদ্ধ গণআন্দোলনের মাধ্যমে।”
তিনি বলেন,
“আমরা শান্তি চাই, কিন্তু বৈষম্যের শান্তি নয়। আমরা সম্প্রীতি চাই, কিন্তু অধিকার হরণ করে চাপিয়ে দেওয়া তথাকথিত সম্প্রীতি নয়। প্রকৃত শান্তি তখনই আসবে, যখন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রশাসন ও রাজনীতিতে বাঙালি জনগোষ্ঠীর ন্যায্য ও দৃশ্যমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।”
সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে যদি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বাঙালি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সকল জাতিগোষ্ঠী সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ কিন্তু দুর্বার আন্দোলন, সমাবেশ, মানববন্ধন ও রাজপথভিত্তিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,
“যারা পার্বত্য চট্টগ্রামে একচেটিয়া কর্তৃত্ব কায়েম করে বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত করতে চায়, তাদের সেই স্বপ্ন এ অঞ্চলের মানুষ আর বাস্তবায়ন করতে দেবে না। অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে—পিছপা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
“এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের লড়াই নয়—এটি পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জাতিগোষ্ঠী অস্তিত্ব, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকারের লড়াই। রাজপথেই এই লড়াইয়ের ফয়সালা হবে।”