খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার লালছড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন কালভার্ট প্রকল্পে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর এক দুর্ধর্ষ চাঁদাবাজ। গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত ব্যক্তির নাম সুইবাঅং মারমা (৪৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালছড়ি এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। গতকাল দুপুরে সেখানে ইউপিডিএফের চারজন সশস্ত্র চাঁদাবাজ এসে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। তাদের অব্যাহত হুমকিতে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে চাঁদাবাজদের ধাওয়া করে। ধাওয়া খেয়ে তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও উত্তেজিত জনতা সুইবাঅং মারমাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের রশিদ বই এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটকের পর দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুইবাঅং মারমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু আজ সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পুলিশের অনুমতি ব্যতীত তিনি হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।
লালছড়ি এলাকার বাসিন্দারা জানান, সুইবাঅং মারমা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক কাজেও তাকে চাঁদা দেওয়া ছিল বাধ্যতামূলক। তাকে আটক করতে পেরে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন:
“আমরা আর ভয় পাব না। চাঁদাবাজরা এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে। এখন থেকে যেকোনো চাঁদাবাজকে রুখে দিতে আমরা এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ ও বদ্ধপরিকর।”
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুনরায় গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

