নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের একটি ক্রয় প্রক্রিয়াকে ঘিরে অনিয়ম ও স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ৮ কোটিরও বেশি দামে ক্রয় করা হয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী কয়েকটি দরপত্র প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘১ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ৮ কোটিতে ক্রয়’ শিরোনামে প্রথম সংবাদ প্রকাশিত হয় ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো জনতা-তে এবং পরদিন ১৯ অক্টোবর দৈনিক নয়া শতাব্দী পত্রিকায়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ যাচাই করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
তদন্ত কার্যক্রম চলমান অবস্থায় ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দৈনিক যুগান্তর এবং ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকায় একই বিষয়ে নতুন করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে পরবর্তীতে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায় বলে জানা গেছে। ফলে অভিযোগের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের সিসিএস/পিএসটি চট্টগ্রামের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি এখনো বহাল রয়েছেন। একই সঙ্গে FAV ডিজেল সরবরাহ সংক্রান্ত কয়েকটি ইজিপি টেন্ডার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ইজিপি টেন্ডার আইডি নম্বর ১০৯৩৭৪৪, ১০৯২১৫৭, ১০৯৩৮২৬ ও ১০৯৩৮৮৫—এই দরপত্রগুলোতে আজমাইন এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন দরদাতা।
এদিকে একই ধরনের আইটেমের জন্য পূর্বে DEE/Workshop থেকে ইজিপি টেন্ডার (আইডি নম্বর ১২১১৫৭৭, ১২১১৫৫৭, ১২১১৫৮২, ১২১১৫৮৪, ১২১১৫৮৫, ১২১৪১৬০ ও ১২১৯১৬২) আহ্বান করা হয়েছিল। সেখানে প্রতিযোগিতামূলক দর ও বিদেশি অফার পাওয়া যায়। দরদাতাদের দাবি, দুটি প্রক্রিয়ার দর তুলনা করলে স্পষ্ট হয় যে, FAV ডিজেল সরবরাহের কাজটি বেশি দামে দেওয়ার জন্য আলাদা প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
দরপত্র সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, টেন্ডার দলিল এমনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে।
সাধারণত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত দরপত্রে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট পরিমাণ মালামাল সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত উল্লেখ থাকে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দরপত্রে ‘সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
দরদাতাদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা সনদ দেখিয়েও দরপত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
আরও অভিযোগ উঠেছে, আজমাইন এন্টারপ্রাইজ যে অভিজ্ঞতা সনদ দাখিল করেছে সেটি ইস্যু করেছে ইলিয়াছ ব্রাদার্স নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চুক্তিপত্র অনুযায়ী যে সময়ে মালামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেই সময়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে সমপরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না তা যাচাই করলে সনদের সত্যতা স্পষ্ট হতে পারে।
অন্যান্য দরদাতাদের দাবি, দরপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলোর একটি হচ্ছে অভিজ্ঞতা সনদের যথাযথ যাচাই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই যাচাই যথাযথভাবে করা হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
পূর্বে গঠিত তদন্ত কমিটি দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় নতুন করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান, অতিরিক্ত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পাহাড়তলী) রাশেদ ইবনে আকবর-এর কাছে এ বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।