খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলাধীন বাইল্যাছড়ি এলাকায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে জরিমানা ও বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পরও পুনরায় কার্যক্রম চালুর অভিযোগ উঠেছে। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
গত ১৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মেসার্স মদিনা ব্রিকফিল্ডকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে এবং ইটভাটার সকল কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরিবেশগত বিধি-বিধান না মেনে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।
তবে স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের কিছুদিন পরই একই এলাকায় আবারও ইটভাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ফসলি জমির মাটি কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা কাঠ। এতে একদিকে কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর পড়ছে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই একাধিক ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে। মাঝে মাঝে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হলেও সামান্য জরিমানা দিয়েই অনেক মালিক পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেন।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট একটি ইটভাটার মালিক তারেক মনোয়ারের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ‘ম্যানেজ’ করে ইটভাটা চালানোর কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি সংবাদকর্মীদের দেখে নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তারেক মনোয়ারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, জালিয়াপাড়া রেঞ্জের এক বন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ইটভাটায় কাঠ সরবরাহে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, টাকার বিনিময়ে বনজ কাঠ ইটভাটায় নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সহায়তা করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পরিবেশ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করছে, কার্যকর ও নিয়মিত তদারকি না বাড়ালে অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্য বন্ধ করা কঠিন হবে এবং এতে পরিবেশ ও কৃষি খাত দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।