খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি :
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার বড়পিলাক এলাকায় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া আলামিন রনি নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে হয়রানি, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার খাগড়াছড়ি সদর থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলামিন রনি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভয়ভীতি ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি একাধিকবার হয়রানিমূলক আচরণ করেছেন।
এদিকে সম্প্রতি ঢাকায় ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পর তাকে ঘিরে আলোচনা আরও জোরালো হয়। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীতে এক নারীর সঙ্গে অবৈধভাবে রাত্রিযাপনের সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েন তিনি। পরে পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ওই নারীকে বিয়ে করতে বাধ্য হন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, গুইমারার বড়পিলাক এলাকায় তার আগে থেকেই স্ত্রী ও পুত্র সন্তান রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে, খাগড়াছড়ি সদর থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আলামিন রনি তাকে কোনো ভরণপোষণ দিচ্ছিলেন না এবং খেয়ালখুশিমতো চলাফেরা করতেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, বাদীর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন একটি টয়োটা প্রাইভেটকার গ্যারেজে মেরামতের জন্য রাখা অবস্থায় গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে না জানিয়ে গাড়িটি নিয়ে যান বিবাদী। গাড়িটির আনুমানিক মূল্য সাড়ে তিন লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর বাদী একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও আলামিন রনির সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিন রনির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে কেউ সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা প্রতারণা করতে না পারে।

