ঢাকাশনিবার , ১০ জানুয়ারি ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. আইন আদালত
  3. আজ দেশজুড়ে
  4. আজকের সর্বশেষ
  5. আন্তর্জাতিক
  6. কৃষি সংবাদ
  7. খাদ্য ও পুষ্টি
  8. খুলনা
  9. খেলাধুলা
  10. চট্টগ্রাম
  11. চাকরি-বাকরি
  12. ছড়া
  13. জাতীয়
  14. জীবনযাপন
  15. ঢাকা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রিভেঞ্জ অব ন্যাচার: প্রকৃতির প্রতিশোধ ও মানবসভ্যতার আত্মজিজ্ঞাসা

kalerproticchobi.com kalerproticchobi.com
জানুয়ারি ১০, ২০২৬ ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রিভেঞ্জ অব ন্যাচার’ বা ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’ এটি কোনো অলৌকিক কল্পকাহিনি নয়, বরং মানবসভ্যতার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেওয়া একটি বাস্তব উপলব্ধি। মানুষের সীমাহীন লোভ, অবিচার, শোষণ ও প্রকৃতিবিরোধী কর্মকাণ্ড যখন একটি সীমা অতিক্রম করে, তখন প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। এই প্রতিক্রিয়াই নানা সময় ভয়াবহ রূপ নিয়ে মানুষের সামনে হাজির হয়। মানুষ সভ্যতার অগ্রগতির নামে প্রকৃতিকে জয় করার ঘোষণা দিয়েছে বহু আগেই। কিন্তু সেই ‘জয়’ আসলে ছিল বন উজাড়, পাহাড় কাটা, নদী ভরাট, বায়ু ও পানি দূষণ, এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের এক দীর্ঘ ইতিহাস। ফলস্বরূপ প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে, বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তার ওপর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন আর ব্যতিক্রম নয়; বরং নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ভূমিধস, তাপপ্রবাহ কিংবা ঘূর্ণিঝড়—এসব দুর্যোগের পেছনে মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একইভাবে বৈশ্বিক মহামারীগুলোও মানুষের পরিবেশ ধ্বংস, বনাঞ্চলে অনুপ্রবেশ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

এই প্রেক্ষাপটে ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’ ধারণাটি আরও গভীর অর্থ বহন করে। এটি বোঝায়—প্রকৃতি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি দেয় না, বরং মানুষ নিজেই নিজের কর্মফলের মুখোমুখি হয়। সমাজে অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়ন যখন বাড়ে, তখন তার প্রভাবও কেবল সামাজিক কাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা পরিবেশ ও মানবিক নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করে তোলে। লোকজ বিশ্বাসে একে বলা হয় ‘রুহের হায়’ বা ‘অদৃশ্য ঋণ’। অর্থাৎ, কেউ যদি ক্ষমতার জোরে অন্যকে বঞ্চিত করে, দুর্বলকে দমিয়ে রাখে বা প্রকৃতিকে লুটে নেয়, তবে সেই ঋণ একদিন ফিরেই আসে। সময়, স্থান ও রূপ বদলালেও ফলাফল এড়ানোর কোনো উপায় নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল প্রচলিত “প্রকৃতি ক্ষমা করে না” বা “কর্মফল অনিবার্য” এ ধরনের বাক্যগুলো মূলত মানুষের এই সম্মিলিত অভিজ্ঞতারই ভাষাগত প্রকাশ। এগুলো কেবল আবেগী বক্তব্য নয়; বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পরিবেশগত বাস্তবতার প্রতিফলন।

আজকের পৃথিবী আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে প্রকৃতির সঙ্গে সংঘাতে নয়, সহাবস্থানে টিকে থাকতে হবে। উন্নয়ন তখনই টেকসই হবে, যখন তা ন্যায়, মানবিকতা ও পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। অন্যথায়, যে মূল্য মানুষকে দিতে হবে, তা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রজন্মে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর দায় বহন করবে পুরো মানবসভ্যতা।

সংক্ষেপে, ‘রিভেঞ্জ অব ন্যাচার’ আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। এটি মনে করিয়ে দেয় মানুষ প্রকৃতির মালিক নয়, বরং তারই একটি অংশ। সেই সত্য অস্বীকার করলে প্রকৃতির প্রতিক্রিয়া অনিবার্যভাবেই আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

মনজিলা ঝুমা ,আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

আমাদের সাইটে আমরা নিজস্ব সংবাদ তৈরির পাশাপাশি দেশের এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম থেকে গুরুত্বপূর্ণ খবর সংগ্রহ করে নির্ভুল সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। আমরা সবসময় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। তবে, যদি কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকে, তাহলে আমরা আপনাকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যম বা নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য। এই সাইটের সব ধরণের সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও এবং ভিডিও কন্টেন্ট কপিরাইট আইন দ্বারা সুরক্ষিত। বিনা অনুমতিতে এই কন্টেন্ট ব্যবহারের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনত শাস্তিযোগ্য। আমরা আমাদের ব্যবহারকারীদের একটি সুরক্ষিত ও তথ্যবহুল অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের নিউজ সাইটের মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য ব্যবহারের আগে দয়া করে সেই তথ্যের উৎস যাচাই করতে ভুলবেন না। আপনাদের সমর্থন এবং সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। আমাদের সাথেই থাকুন, সর্বশেষ খবর এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে।
%d bloggers like this: